সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ছবি-সংগৃহীত
অনিল চন্দ্র রায়, ধরলা পোস্ট :
রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময়, উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানালেন; মন্দির কর্তৃপক্ষকে দিলেন ১০ লাখ টাকার চেক
অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা:
সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। এ দেশকে এগিয়ে নিতে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আগামী হাজার বছরও যেন এ দেশের মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো ধর্মের পরিচয় বিবেচনা না করে সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও দল-মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।
তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও যেন এই সম্প্রীতি অটুট থাকে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
জনগণের সরকার হতে চায় বিএনপি:
সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার শুধু যারা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নয়; যারা ভোট দেননি, তাঁদেরও সরকার হতে চায়।
তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকায় সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। মানুষের চলাচলের জন্য সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু একটি মহল বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতের মতো মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা যেমন ভালো ফল বয়ে আনেনি, তেমনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টাও জনগণ ভালোভাবে নেবে না।
তিনি বলেন, কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়। দেশের মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চায়। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি বলেন, অতীতের রাজনীতির ধারায় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। তাই দেশের মানুষের সহযোগিতা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করতে চায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেভাবেই সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যাঁরা এই বাংলাদেশে আছি, এই দেশটা আমাদের। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করব।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছোট ছোট শিশুর নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী পূজারি ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মন্দিরের সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন।
এ ছাড়া মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো একটি অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল ও নিপুণ রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা।
এ সময় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। রাধা গোবিন্দ মন্দিরের অনুষ্ঠান শেষে তিনি সড়কপথে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।